ফ্যাক্ট—প্রতিশ্রুতি

কথা দিয়ে সেই কথা রাখার নাম প্রতিশ্রুতি, সেটা আমরা সকলেই জানি।এটাতো হল বাস্তব সত্য।কিন্তু এই যুগে আমাদের সমাজে আমরা এই প্রতিশ্রুতি জিনিসটাকে পুরাই বিকৃত করে দিয়েছি।মানুষ এখন আর কথা দিয়ে কথা রাখেনা।যা এক কথায় বেইমানি।যা ফলস্রুতি হল অবিশ্বাস।এখন এ প্রতিশ্রুতি না রাখার জন্য মানুষ মানুষকে বিশ্বাস করতে চায়না।সমাজ থেকে বিশ্বাস ব্যাপারটা পুরোপুরি উঠে গেছে।এখন কথা হচ্ছে,একটা মানুষকে আপনি একটা জিনিস দিবেন বলে কথা দিলেন,কিন্তু সময়মত সেই জিনিসটা দিলেন না,এতে হবে কি ওই লোক আপনার উপর ভরসা রেখে আসায় থাকল,কিন্তু পেল না।তখন সে মনে মনে ব্যাথিত হবে অথবা আপনি কথা না রাখার কারনে আশায় থাকা ব্যক্তির অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেল।এতে ওই মনে ক্ষোভ জাগাটা খুবই একটা স্বাভাবিক ব্যাপার।সে আপনার কাছ থেকে যে বিশ্বাসটুকু হারিয়েছে দ্বিতীয় কারো উপর সেই বিশ্বাসটা রাখতে দ্বিধাবোধ করবে।অর্থ্যাৎ,আপনার কারনে সে ব্যক্তি কোন ভালো মানুষকেও বিশ্বাস করতে পারবেনা,এটাই স্বাভাবিক।আর এতেই নষ্ট হয় মুল্যবান এক জিনিস ভ্রাতৃত্ব। এতক্ষন যে ব্যাপারটা বললাম,সেটা আমরা সবাই জানি,কিন্তু বাস্তবিক অর্থে তা আমরা কেউই মানিনা।
এখন এই বিষয়ের উপর কথা হল,মহান আল্লাহ্ তায়ালা তো আমাদের কে বিবেক,বুদ্ধি আর চিন্তাশক্তি সবই দিয়েছেন।অন্যতম নামকরা বিজ্ঞানী আইজ্যাক নিউটনের মাথার মগজের ওজন ১৬ আউন্স আর সেই পরিমানটা আপনার আমার সবারই সমান।নিউটনতো তার চিন্তাশক্তি কাজে লাগিয়ে কতই না কিছু আবিষ্কার করল,যার ফলস্রুতি আজকের এই আধুনিক সভ্যতা।তাহলে,আমরা কেন আমাদের চিন্তাশক্তি কাজে লাগাব না….???যদি আমরা একটু চিন্তা করি যে, কোন ব্যক্তিকে একটা কথা যে দিব সেটা রাখতে পারব কি না…!!এই সামান্য ব্যাপারটা একটু চিন্তা বললে কি হয় যে, আমি পারব কি পারবনা।যদি সম্ভব হয় তো হ্যাঁ আর সম্ভব না হলে না বলব,তাতে কি সমস্যা।শুধু শুধু মানুষকে মিথ্যা আশ্বাস দেয়ারতো কোনো মানে হয় না।যদি ভালোভাবে চিন্তা করে নিশ্চিতভাবে তার প্রতিশ্রুতি রাখা যাবে কি যাবেনা সেটা বলা যায় তাহলে আর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হয় না,আর মানুষের প্রতি মানুষের বিশ্বাস ও নষ্ট হয় না,সম্পর্কটাও ভালো থাকে।এতে ক্ষতি কি…..?এটা আসলে প্রত্যেকের মানসিকতার ব্যাপার।আমরা কেন সমাজে শুধু শুধু ভ্রাতৃত্ববোধটাকে বিলিন করে দিব……???এতে করে মানুষের ওপর মানুষের যে ভালোবাসা আর শ্রদ্ধাটুকু থাকে তা লোপ পেতে থাকে।আর আল্লাহ্ তো পবিত্র কুরআনে স্পষ্টই বলে দিয়েছেন,প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা জঘন্যতম অপরাধ।শুধু কুরআন কেন,পৃথিবীর সমস্ত ধর্ম গ্রন্থই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে কথা বলেছে।
সবশেষে এটাই বলা চলে যে,যেহেতু মানুষ সামাজিক জীব,সবাই যেহেতু কোনভাবে না কোনভাবে একে অন্যের ওপর নির্ভরশীল,কারো দ্বারা কোন কিছু সম্ভব না হলে মানুষকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেয়াটা চরম অন্যায়,যা কখনোই করা উচিত না।

Advertisements